সহিহ বুখারী
তোমাদের দোয়া অর্থাৎ তোমাদের ঈমান।
﴾قُلْ مَا يَعْبَأُ بِكُمْ رَبِّي لَوْلَا دُعَاؤُكُمْ﴿ وَمَعْنَى الدُّعَاءِ فِي اللُّغَةِ الْإِيمَانُ.
এ মর্মে আল্লাহ তা‘আলার বাণী: “বলে দিন, আমার প্রতিপালক তোমাদের একটুও পরোয়া করবেন না যদি তোমরা ‘ইবাদাত না কর।” (সূরা আল-ফুরকান ২৫/৭৭)
ইবন ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন, ইসলামের স্তম্ভ হচ্ছে পাঁচটি।
১. আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রসূল-এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করা।
২. সালাত কায়েম করা।
৩. যাকাত আদায় করা।
৪. হজ্জ সম্পাদন করা এবং
৫. রমজানের সিয়ামব্রত পালন করা (রোজা রাখা) [১]।
(৪৫১৪; মুসলিম ১/৫ হাঃ ১৬, আহমাদ ৬০২২, ৬৩০৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৭)
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, ঈমানের ষাটেরও অধিক শাখা আছে। আর লজ্জা হচ্ছে ঈমানের একটি শাখা।
(মুসলিম ১/১২ হাঃ ৩৫, আহমাদ ৯৩৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৮)
আবদুল্লাহ্ ইব্নু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন, ‘‘সে-ই মুসলিম, যার জিহ্বা ও হাত হতে সকল মুসলিম নিরাপদ এবং সে-ই প্রকৃত মুহাজির, আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা যে ত্যাগ করে।’’
(৬৪৮৪; মুসলিম ১/১৪ হাঃ ৪০, আহমাদ ৬৭৬৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৯)
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তারা (সাহাবীরা) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! ইসলামে কোন জিনিসটি উত্তম? তিনি বললেনঃ যার জিহ্বা ও হাত হতে মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।
(মুসলিম ১/১৪ হাঃ ৪২, আহমাদ ৬৭৬৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১০)
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য সেটাই পছন্দ করবে, যা তার নিজের জন্য পছন্দ করে।
(মুসলিম ১/১৭ হাঃ ৪৫, আহমাদ ১২৮০১, ১৩৮৭৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১২)
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রসূল (ﷺ) বলেনঃ সেই আল্লাহর শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা ও সন্তানাদির চেয়ে অধিক ভালবাসার পাত্র হই।
আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৩
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন: তিনটি গুণ যার মধ্যে আছে, সে ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করতে পারে:
১. আল্লাহ ও তাঁর রসূল তার নিকট অন্য সকল কিছু হতে অধিক প্রিয় হওয়া;
২. কাউকে একমাত্র আল্লাহর জন্যই ভালবাসা;
৩. কুফরীতে প্রত্যাবর্তনকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হবার মত অপছন্দ করা।
(২১, ৬০৪১, ৬৯৪১; মুসলিম ১/১৫ হাঃ ৪৩, আহমাদ ১২০০২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৫)
আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) ইরশাদ করেন: ঈমানের আলামত হল আনসারকে ভালোবাসা এবং মুনাফিকীর চিহ্ন হল আনসারের প্রতি শত্রুতা পোষণ করা।
(৩৭৮৪; মুসলিম ১/৩৩ হাঃ ৭৪, আহমাদ ১৩৬০৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৬)
আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রসূল (ﷺ) বলেছেনঃ সেদিন দূরে নয়, যেদিন মুসলিমের উত্তম সম্পদ হবে কয়েকটি বকরী, যা নিয়ে সে পাহাড়ের চূড়ায় অথবা বৃষ্টিপাতের স্থানে চলে যাবে। ফিতনা হতে সে তার ধর্ম সহকারে পলায়ন করবে।
(৩৩০০, ৩৬০০, ৬৪৯৫, ৭০৮৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৮)
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রসূল (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করা হল, কোন আমলটি উত্তম?
তিনি বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রসূলের উপর বিশ্বাস স্থাপন করা [১]।
জিজ্ঞেস করা হলো, অতঃপর কোনটি?
তিনি বললেন: আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।
প্রশ্ন করা হল, অতঃপর কোনটি?
তিনি বললেন: মাকবূল হজ্জ সম্পাদন করা।
(১৫১৯; মুসলিম ১/৩৬ হাঃ ৮৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫, .ফা. ২৫)
আবদুল্লাহ্ ইব্নু ‘আম্র (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি আল্লাহর রসূল (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করল, ইসলামের কোন কাজ সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেনঃ তুমি লোকদের খাদ্য খাওয়াবে এবং চেনা অচেনা সকলকে সালাম দিবে।
আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২৭
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রসূল (ﷺ) বলেছেন, মুনাফিকের চিহ্ন তিনটি:
১. যখন কথা বলে মিথ্যা বলে;
২. যখন অঙ্গীকার করে ভঙ্গ করে এবং
৩. আমানত রাখা হলে খিয়ানত করে।
(২৬৮২,২৭৪৯,৬০৯৫; মুসলিম ১/২৫ হাঃ ৫৯, আহমাদ ৯১৬২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩২)
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রসূল (ﷺ) এরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে নেকির আশায় কদরের রাতে ইবাদতের মধ্যে রাত্রি জাগবে, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।
(৩৭, ৩৮, ১৯০১, ২০০৮, ২০০৯, ২০১৪; মুসলিম ২/২৫ হাঃ ৭৬০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪)
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি রমজানের রাতে ঈমানসহ পূণ্যের আশায় রাত জেগে ইবাদত করে, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।
আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৬
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রসূল (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানসহ পূণ্যের আশায় রমজানের সিয়াম ব্রত পালন করে, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।
আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৭